আবার ভূমিকম্প হলো। ১ আগস্ট বিকেল ৪টায় রিখটার স্কেলে ৫ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপেছে বাংলাদেশ। তবে বড় ধরনের ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি থেকে বাঁচতে আমাদের প্রস্তুতি আছে কি? ভূমিকম্পের কোনো পূর্বাভাস আজো আবিষ্কৃত হয়নি। হঠাৎ এটা শুরু হয়ে ৩০-৪০ সেকেন্ড প্রলয়লীলা ঘটায়। ধর্মীয় বিধানে ভূমিকম্পকে গজব হিসেবে অভিহিত করা হয়। যে সমাজে আল্লাহ তায়ালার নাফরমানি, অন্যায়, অত্যাচার, অবিচার ইত্যাদির মাত্রা চরমভাবে লঙ্ঘিত হয়; সে সমাজকে নানাভাবে গজব দিয়ে আল্লাহ সতর্ক করেন। আল্লাহর বিধিবিধান যথাযথভাবে মেনে চলার বিকল্প নেই। বিল্ডিংকোড অনুযায়ী বাড়ি নির্মাণ আবশ্যক। ভূমিকম্পে আতঙ্কিত হয়ে ছোটাছুটি করা যাবে না কিংবা বাড়ি থেকে সাথে সাথে বের হওয়া যাবে না। বিছানায় থাকলে, বালিশ দিয়ে মাথা ঢেকে নিতে হবে। তারপর টেবিল, ডেস্ক বা শক্ত আসবাবের নিচে আশ্রয় নিয়ে তা ধরে থাকতে হবে, যেন মাথার ওপর থেকে সরে না যায়। শক্ত দরজার চৌকাঠের নিচে এবং পিলারের পাশে আশ্রয় নিতে হবে। বারান্দা, ব্যালকনি, জানালা, বুকশেলফ, আলমারি, কাঠের আসবাবপত্র, বাঁধানো ছবি বা অন্য কোনো ঝুলন্ত বা ভারী বস্তু থেকে দূরে থাকতে হবে। রান্নাঘরে থাকলে যত দ্রুত সম্ভব বের হয়ে আসতে হবে। বাড়ির বিদ্যুতের মূল সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং গ্যাসের চাবি বন্ধ করতে হবে। লিফট ব্যবহার করা যাবে না। উঁচু বাড়ির জানালা, বারান্দা বা ছাদ থেকে লাফ দেয়া যাবে না। ঘরের বাইরে থাকলে গাছ, উঁচু বাড়ি, বিদ্যুতের খুঁটি থেকে দূরে খোলা স্থানে আশ্রয় নিতে হবে। জনাকীর্ণ ঘরে (যেমনÑ গার্মেন্ট ফ্যাক্টরি, হাসপাতাল, সিনেমা হল, মার্কেট, বিদ্যালয় প্রভৃতি থাকলে বাইরে বের হওয়ার জন্য দরজার সামনে ভিড় কিংবা ধাক্কাধাক্কি করা ঠিক নয়। পণ্যসামগ্রীর শেলফ থেকে দূরে আশ্রয় নিয়ে দুই হাতে মাথা ঢেকে বসে পড়তে হবে। গাড়িতে থাকলে ওভারব্রিজ, ফ্লাইওভার, গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি থেকে দূরে গাড়ি থামাতে হবে। ভূমিকম্প না থামা পর্যন্ত গাড়ির ভেতরেই থাকতে হবে। ভাঙা দেয়ালের নিচে চাপা পড়লে বেশি নড়াচড়ার চেষ্টা করা উচিত নয়। কাপড় দিয়ে মুখ ঢেকে রাখতে হবে, যাতে ধুলোবালু শ্বাসনালীতে না ঢোকে। সম্ভব হলে দেয়ালের পাশে সরে আসতে এবং উদ্ধারকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করতে হবে। শেষ প্রচেষ্টা হিসেবে সাহায্যের জন্য চিৎকার করতে হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে, ওই সময় যাতে শ্বাসযন্ত্রে ধুলোবালু প্রবেশ করতে না পারে
সূত্র:dailynayadiganta
