• আজ জুমার নামাজ পড়ে মিনায় যাবেন হজযাত্রীরা

    প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ০৯, ২০১৬ ৮:২৬ AM
    A- A+
    পবিত্র হজের আগে আজ শেষ জুমা। সারা বিশ্ব থেকে আসা লাখ লাখ হজযাত্রী আজ পবিত্র মসজিদুল হারামে (কাবা শরিফ) জুমার নামাজ আদায় করার পর পবিত্র হজ পালন করতে মিনার উদ্দেশে রওনা হবেন।

    মক্কার মসজিদুল হারাম থেকে প্রায় নয় কিলোমিটার দূরে মিনা। মিনায় কেউ যাবেন গাড়িতে, কেউবা হেঁটে। হজের অংশ হিসেবে হজযাত্রীরা ৭ থেকে ১২ জিলহজ—এই কয় দিন মিনা, আরাফাত, মুজদালিফায় অবস্থান করবেন। ৮ জিলহজ মিনায় সারা দিন থাকবেন। ৯ জিলহজ ফজরের নামাজ আদায় করে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরে আরাফাতের ময়দানে সূর্যাস্ত পর্যন্ত অবস্থান করবেন। আরাফাত থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে মুজদালিফায় গিয়ে রাতযাপন ও পাথর সংগ্রহ করবেন হাজিরা। ১০ জিলহজ ফজরের নামাজ আদায় করে মুজদালিফা থেকে আবার মিনায় ফিরবেন। মিনায় এসে বড় শয়তানকে পাথর মেরে, কোরবানি করে ও মাথা মুণ্ডন বা চুল ছেঁটে মক্কায় কাবা শরিফ তাওয়াফ করবেন। তাওয়াফ, সাঈ শেষে মিনায় ফিরে ১১ ও ১২ জিলহজ অবস্থান করবেন ও প্রতিদিন তিনটি শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করবেন।

    সৌদি আরবে বিমানবন্দরে নামার পর থেকে নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে হাজিদের মক্কা-মদিনায় পৌঁছানো, মক্কা-মদিনায় আবাস, মিনা, মুজদালিফা, আরাফাতে থাকা-খাওয়া, যাতায়াতসহ সবকিছুর ব্যবস্থা যাঁরা করেন, তাঁদের বলা হয় মোয়াল্লেম। সৌদি আরবের নাগরিকেরাই হতে পারেন মোয়াল্লেম। প্রত্যেক মোয়াল্লেমের নির্দিষ্ট নম্বর আছে।
    প্রত্যেক হজযাত্রীকে নিজ নিজ মোয়াল্লেম কার্যালয় থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, কখন মিনার উদ্দেশে রওনা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে দেওয়া হয় মিনার তাঁবু নম্বরসংবলিত কার্ড। ওই কার্ড সব সময় গলায় ঝুলিয়ে রাখতে হয়। একইভাবে মিনা, মুজদালিফা, আরাফাতে কীভাবে কখন রওনা হবেন, তা-ও জানিয়ে দেওয়া হয় আগেভাগে।
    আমাদের মোয়াল্লেম আজ (শুক্রবার) এশার নামাজ পড়ে মিনার উদ্দেশে রওনা দেবেন বলে জানিয়েছেন। পাঁচ দিন পর আবার বাসায় ফিরব বলে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সঙ্গে নিতে হবে। মক্কার নিজ বাসাতেই অজু-গোসল সেরে সেলাইবিহীন দুই টুকরা কাপড় পরে হজের নিয়ত করতে হবে। ইহরামের কাপড় (আড়াই হাত বহরের আড়াই গজ কাপড় আর গায়ের চাদরের জন্য একই বহরের তিন গজ কাপড়) এক সেট পরে নিতে হবে, অতিরিক্ত আরেক সেট থাকবে ব্যাগে। এ ছাড়া এক সেট সাধারণ পোশাক (শার্ট-প্যান্ট অথবা পাঞ্জাবি-পায়জামা), পেস্ট, ব্রাশ, সাবান, চার্জারসহ মুঠোফোন, মুজদালিফায় রাতে ঘুমানোর জন্য হালকা বিছানাসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ছোট ব্যাগে নিলে ভালো হয়। কারণ, নিজের ব্যাগ নিজেকেই বহন করতে হবে।
    মিনায় (জামারাত) শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের সময় যাতে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে, সে জন্য সৌদি হজ কর্তৃপক্ষ (মোয়াচ্ছাসা) হাজিদের ভাগ ভাগ করে জামারাতে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছে।
    কয়েক বছর হলো হাজিদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য আরাফাত থেকে মিনা পর্যন্ত মনোরেল সেবা চালু হয়েছে। প্রায় ১৮ কিলোমিটার এ পথে রয়েছে নয়টি স্টেশন (আরাফাতে তিনটি, মুজদালিফায় তিনটি এবং মিনায় তিনটি)। মিনায় যাঁদের তাঁবু রেলস্টেশনের কাছাকাছি পড়েছে, তাঁরা চাইলে রেলের টিকিট কিনতে পারেন। আমাদের তাঁবু রেলস্টেশন থেকে দূরে হওয়ায় রেলের টিকিট দেননি মোয়াল্লেম।
    মিনায় দক্ষিণ এশিয়ার হজযাত্রীদের জন্য ১ থেকে শুরু করে ১১৫ নম্বর পর্যন্ত মোয়াল্লেম আছেন। মোয়াল্লেমকে অতিরিক্ত অর্থ দিলে জামারাতের (শয়তানকে পাথর মারার স্থান) কাছে তাঁবু পাওয়া যায়। আফ্রিকা, সৌদি আরব, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ থেকে আসা হজযাত্রীদের জন্য রয়েছে আলাদা জোন। মিনায় এমন সাতটি জোন রয়েছে।
    মোয়াল্লেম দপ্তর সূত্র বলেছে, জামারাতের কাছে মোয়াল্লেম নম্বর ১১, ১২ ও ২২-এর অধীনে থাকবেন বাংলাদেশ থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় আসা হাজিরা। আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এজেন্সির মাধ্যমে আসা হাজিরা থাকবেন ৩, ৫, ১৪, ৫২, ৫৩, ৫৬, ৫৭, ৬৩, ৬৫, ৬৬, ৭০, ৭২, ৭৪, ৭৭, ৭৮, ৮০, ৮১, ৮৩, ৮৪, ৮৫, ৮৭, ৮৮, ৮৯, ৯০, ৯৩, ৯৪, ৯৫, ৯৮, ৯৯, ১০০, ১০১, ১০২, ১০৪, ১০৭, ১০৮, ১১০, ১১১, ১১৪, ১১৫ মোয়াল্লেম নম্বরের অধীনে।
    মিনায় হাজিদের সহায়তার জন্য ১৬/৫৬ নম্বর তাঁবুতে পাঁচ দিন বাংলাদেশ হজ কার্যালয়ের কার্যক্রম চালানো হবে।
    বিমানের সিটি চেকিং: বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস কয়েক বছর ধরে হাজিদের সুবিধার জন্য সিটি চেকিং শুরু করেছে। অর্থাৎ ফ্লাইট ছাড়ার ২৪ ঘণ্টা আগে মক্কায় এবং ফ্লাইট ছাড়ার ৩৬ ঘণ্টা আগে মদিনায় যাত্রীর লাগেজ বিমান গ্রহণ করবে। বিমানবন্দর থেকে বিমানের লাগেজ গ্রহণ করা হবে না। একজন যাত্রী বিনা ভাড়ায় সর্বোচ্চ ৪৬ কেজি মালামাল বহন করতে পারবেন। একটি লাগেজের ওজন ৩০ কেজির বেশি হবে না। তা ছাড়া, সৌদি আরবের নিয়ম অনুযায়ী হাজিদের নিজ নিজ ফ্লাইটের ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা আগে জেদ্দা হজ টার্মিনালে মোয়াল্লেম পৌঁছে দেন। বিমানবন্দরে এই ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা বসে থাকায় অনেকের ধৈর্যচ্যুতি হয়। এই তথ্যটি অনেক হজযাত্রীর অজানা। ফিরতি ফ্লাইট শেষে হাজিরা নানা ভোগান্তির অভিযোগ করেন তথ্যটি না জানার কারণে।

    বিষয়: