• অস্ত্র-গুলি উপেক্ষা করে ৭ নভেম্বর সমাবেশ করবে বিএনপি : রিজভী

    প্রকাশ: নভেম্বর ০২, ২০১৬ ৬:৩৩ PM
    A- A+
    নকাল রিপোর্ট : ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা বিভিন্ন সময়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার কথা বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, মতাসীন সরকার অবৈধ। জোর করে মতা দখল করে আছে। মতায় থাকার কোনো অধিকার তাদের নেই। তাই পতনের ইতিহাস ভুলে যাওয়া আওয়ামী লীগের পতন আসন্ন। নির্বাচনের নামে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে আর এই পতন স্বয়ং শেখ হাসিনাই ডেকে আনছেন। গতকাল  মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেসকাব মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৩৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘চাই বাকস্বাধীনতা, চাই গণতন্ত্র’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে যুবদল। : রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগের এক নেতা বলছেন নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত হোন। আবার আরেকজন বলেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে। আবার কেউ বলেন, ’৪১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকবেন। কোনটা ঠিক? তার চেয়ে বলুন আপনাদের নাতি-নাতনি পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকবেন। নির্বাচনের কথা বলে জনগণের কাছে কি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন? তাদের বক্তব্যে জনগণ বিভ্রান্ত। বিভ্রান্ত তৈরি করাই আওয়ামী লীগের মূল কর্মসূচি। তারা বিভ্রান্তই তৈরি করতে চায়। তিনি বলেন, রকিবউদ্দিন ও এইচ টি ইমাম মার্কা নির্বাচনে বিএনপি যাবে না। আওয়ামী লীগ জানে না তাদের প্রতিটি অপরাধের বিচার করতে জনগণের বিচারালয় প্রস্তুত করা হচ্ছে। একদিন সেখানে প্রতিটি অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিচার করা হবে। সরকার নির্বাচন কমিশন ও গণতন্ত্র ধ্বংসের পর এখন বিচারবিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করছে। মাননীয় প্রধান বিচারপতি আক্ষেপ করে বলেছেন, বিচার বিভাগের ওপর হস্তক্ষেপ চলছে। তিনি যথার্থই বলেছেন। তার ওপর যে বিভিন্নভাবে চাপ তৈরি করা হচ্ছে, অর্থাৎ শাসক দল তাদের পক্ষে বিচারের রায় নিয়ে আসার জন্য যে চাপ প্রয়োগ করছে তা স্পষ্ট হয়েছে প্রধান বিচারপতির আক্ষেপে। : সরকার ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বললেও তাদের শাসনামলেই সবচেয়ে বেশি সাম্প্রদায়িকতার ঘটনা ঘটেছে দাবি করে রিজভী বলেন, এই সরকার সেক্যুলিজমের কথা বলে। ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলে মুখে ফেনা তুলে ফেলে। অথচ তাদের সময়েই সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, খুন, ইসলাম ধর্মের প্রতি অবমাননা করে বক্তব্য এসেছে। এটি কোন ধরনের ধর্মনিরেপক্ষতাবাদ? জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করতে সরকার একেকটি ইস্যু সামনে আনে অভিযোগ করে তিনি বলেন, আসলে এই ধরনের প্রেক্ষাপট তৈরি করে জনদৃষ্টিকে ভিন্ন দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য। সরকার জোর করে ক্ষমতায় থাকায় জনগণের মধ্যে যে ক্ষোভ-বিদ্বেষ আছে তা অন্যদিকে সরিয়ে দেয়ার জন্য কখনো কখনো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করে, সংঘাত করে, মন্দির-গির্জায় আক্রমণ করে, আবার কখনো কখনো জঙ্গিদের নামে ধর্মগুরুদের হত্যা করা হয়। একের পর এক ঘটনা ঘটে আর আগেরটি ধামাচাপা পড়ে যায়। জনগণ বিশ্বাস করে এই জঙ্গিবাদের সঙ্গে সরকারের সম্পৃক্ততা আছে। এই জঙ্গিবাদের কর্মকান্ডে সরকার প্রশ্রয় দিচ্ছে জনদৃষ্টি ভিন্নদিকে প্রবাহিত করতে। : বিএনপির এই সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, জাঁকজমকভাবে আওয়ামী লীগ তাদের জাতীয় কাউন্সিল করলেও এ নিয়ে জনগণ কোনো আগ্রহ দেখায়নি। কাউন্সিল নিয়ে যে জমজমাট আসর দেখলাম, তাতে জনগণের কোনো আগ্রহ ছিল না। তাদের মধ্যে কোনো ধরনের প্রভাব বিস্তার বা আকর্ষণ সৃষ্টি হয়নি। এতো ঢাক-ঢোল পিটিয়ে ৫০ হাজার লোক জড়ো করতে পারেনি। ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বিএনপির পূর্বঘোষিত সমাবেশ নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ওইদিন দলে দলে জনগণ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাবে। সমাবেশ হবেই। আগামী ৭ নভেম্ব^র রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সকল প্রকার রক্তচু উপো করে যে কোনো মূল্যে বিএনপি সমাবেশ করবে। বিএনপি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় রাজনীতি করে তাই আগামী ৭ নভেম্বর জলপাইয়ের পাতা-ঢাল দিয়ে বাঁশি বাজিয়ে বাজিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমবেত হবে। দেখি কত গুলি আর অস্ত্র দিয়ে মতাসীনরা বিএনপির সেই সমাবেশ প্রতিহত করে। যুবদলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে রিজভী বলেন, যুবদল জিয়াউর রহমানের হাতের ছোঁয়ায় গড়া একটি দল। একটি কথা স্পষ্ট করে মনে রাখতে হবে এই যুবদলকে কোনো ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের মাধ্যমে ধ্বংস করা যাবে না। কারণ এই যুবদল কোনো টেন্ডারবাজি ও নারী নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত থাকে না। : সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এলবার্ট পি কস্টার সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ক ম মোজাম্মেল হক, সহযুব বিষয়ক সম্পাদক মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, সহসভাপতি মোরতাজুল করিম বাদরু, আবদুল খালেক, ফারুক হোসেন, দফতর সম্পাদক কাজী রফিক, ঢাকা মহানগর যুবদল উত্তরের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আলম মজনু প্রমুখ। এছাড়াও যুবদল নেতা মো. কামাল উদ্দিন, মো. মাসুদুর রহমান, গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, মাহবুবুর রহমান বাচ্চু, আব্দুল  ওহাব, কফিল উদ্দিন, সৈয়দ আবেদিন প্রিন্সসহ অসংখ্য যুবদলের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। : এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম  মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ৭ নভেম্ব^র গণতন্ত্র ফিরে পাবার ও স্বাধীনতা সুরার একটি মহান দিন। এই দিবস পালিত হবে। আমি বিএনপির প থেকে বলছি, হানিফ সাহেবরা প্রতিহত করুন। আমরা জলপাইয়ের পাতা নিয়ে এগিয়ে যাব, দিবসটি পালন করবই। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর রাজনৈতিক পালাবদলের এক পর্যায়ে সেনানিবাসে বন্দি হন তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান। এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তিনি ৭ নভেম্ব^র মুক্ত হয়ে রাষ্ট্রমতা দখলের পর বিএনপি গঠন করেন। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ সোমবার এক আলোচনা সভায় বলেন, ৭ নভেম্বর দিবস পালন করতে দেয়া হবে না। এর জবাবে রিজভী বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, হানিফ সাহেব যে কথা বলেছেন, এটা তার ব্যক্তিগত বক্তব্য, সরকারের বক্তব্য নয়। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এই সমাবেশ সরকার করতে দেবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিশেষ করে পুলিশও তা অনুমোদন দেবে। তাদের কাছ থেকে আমরা বিভিন্নভাবে ইংগিতও পাচ্ছি। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া উপস্থিতিতে ওই সমাবেশ সুচারু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান। আওয়ামী লীগ নেতা হানিফের উদ্দেশে রিজভী বলেন, আপনাদের অস্ত্র আছে, রাইফেল আছে, আপনাদের সাজানো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আছে, আপনারা অনেক কিছুই করতে পারেন। কিন্তু মানুষের হৃদয়ের ভেতরে যে দিবসটি পালিত হয়, সেই দিবসটি মুছবেন কি করে। : সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, গত ৩০ অক্টোবর ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলায় রসরাজ দাস নামে একজন ব্যক্তি পবিত্র কাবা শরীফ অবমাননা করে আপত্তিকর ছবি সামাজিক গণমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করার পরিপ্রেক্ষিতে উ™ভূত পরিস্থিতিতে অত্র এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের জীবন যাপন, উপাসনালয়, বসতবাড়িতে যে হিংস্র আক্রমণের তান্ডব  সৃষ্টির মাধ্যমে যে ভীতি ও আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে তা নজিরবিহীন। এই ঘটনা অত্যন্ত সুপরিকল্পিত এবং সামাজিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলÑবিএনপির পক্ষে আমি হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দিরে ভাঙচুর, লুটপাট এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের জানমাল বিপন্ন হওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। যদিও রসরাজ দাসের বিরুদ্ধে নাসিরনগর থানায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ফেসবুকে আপত্তিকর ছবি পোস্ট করার বিষয়টি সে অস্বীকার করেছে। তার পরেও সত্যিকারের অপরাধের বিষয়টি যাচাই না করে আইন হাতে তুলে নেয়া বর্বরতারই নামান্তর। হুজুগ সৃষ্টি করে দোষারোপের মাধ্যমে একটি সংঘাতপূর্ণ অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টিতে মহলবিশেষ ইন্ধন যুগিয়ে থাকে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলথÑবিএনপি সব ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ধর্ম বিশ্বাসকে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে এবং দেশের সকল জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা বিধান ও ধর্মীয় স্বাধীনতাকে নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। একই সঙ্গে সারা মুসলিম বিশ্বের গভীর শ্রদ্ধার স্থান পবিত্র কাবা শরীফকে অবমাননা করে কোটি কোটি মুসলমানের ধর্মীয় চেতনায় আঘাত করার ঘটনায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির পক্ষ থেকে আমি তীব্র ধিক্কার ও নিন্দা জানাচ্ছি। সামাজিক গণমাধ্যম ফেসবুকে পবিত্র কাবা শরীফকে নিয়ে যে অবমাননাকর ও ধৃষ্টতাপূর্ণ পোস্ট দেয়া হয়েছে তিনি যেই হোন না কেন তাকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে এসে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।    : তিনি বলেন, বেশ কিছুদিন ধরেই একটি কুচক্রী মহল বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক  সম্প্রীতির মজবুত মোজাইক ভেঙে ফেলার জন্য গভীর চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে। এদেশে যুগ যুগ ধরে সকল সম্প্রদায় নিবিড় ভ্রাতৃত্ববন্ধনের ঐতিহ্যকে ম্লান করে বাংলাদেশের শাশ্বত অসাম্প্রদায়িক ভাবমূর্তিটি কালিমালিপ্ত করার জন্য মহলবিশেষের তৎপরতা দেশবাসী প্রত্যক্ষ করছে। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ওপর হামলা চালিয়ে তাদের ধর্মগুরুদের হত্যা, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডায় হামলা, লুটপাট এবং বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়ার ঘটনা পুনঃপুনঃ সংঘটিত হচ্ছে। এমনকি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ ইমাম-মোয়াজ্জিনকেও সন্ত্রাসী হামলায় জীবন দিতে হয়েছে। এই তথাকথিত সেক্যুলার সরকারের সময়ে সবচেয়ে বেশি আক্রমণ হয়েছে বিভিন্ন ধর্ম সম্প্রদায়ের ওপর। : তিনি আরো বলেন, সরকার নিজেদের উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য আমাদের দেশের আবহমানকাল থেকে গড়ে ওঠা বিভিন্ন ধর্ম সম্প্রদায়ের মধ্যে পরস্পরের শুভেচ্ছাবোধ সামাজিক বন্ধন ভেঙে তছনছ করে দিয়েছে, সমাজের অভ্যন্তরে অসহিষ্ণুতা ও বিদ্বেষ এখন মহামারী আকার ধারণ করেছে। এই ভোটারবিহীন সরকারের প্রতিহিংসার রাজনীতি, বিরোধী পথ ও মতকে নির্মূল করে শুধুমাত্র নিজেদের আগ্রাসী ক্ষুধা মেটাতে গিয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রের অটুট বন্ধনকে ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। এগুলো করা হয়েছে বিশেষ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে। দেশের জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন সম্প্রদায়কে পরস্পরের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে সংঘাত সংঘর্ষের পরিবেশ বিরাজমান থাকলেই সরকারের জন্য মহাসুবিধা হয়। এতে জনগণের দৃষ্টিকে অন্যদিকে সরিয়ে দিয়ে সরকারের অবৈধ সত্তাকে ভুলিয়ে রাখা যায়। কারণ এখন বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, খুন, নারী ও শিশু নির্যাতনে রাষ্ট্র ও সমাজকে রক্তাক্ত করে ন্যায় বিচার নিরুদ্দেশ করা হয়েছে। এবং সেজন্যই এই সরকারের আমলে বিভিন্ন ধর্ম-সম্প্রদায়ের ওপর যে হামলা হয়েছে, সেটিকে চিরদিনের জন্য নির্মূল করার বাস্তব কোন উদ্যোগ কখনোই গ্রহণ করা হয়নি। : বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন ধর্ম সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভেদ ও বিভাজন জিইয়ে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত রবিবার ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর, মন্দির, দত্তবাড়ী মন্দির ও জগন্নাথবাড়ী মন্দিরসহ ১৩টি বাড়িঘর লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। এছাড়া শাসকদলের উচ্চ পর্যায়ের কোনো নেতা বা সরকারের কোনো সংসদ সদস্য কিংবা মন্ত্রী এলাকা পরিদর্শন ও সংকট উত্তরণে কোন যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির পক্ষ থেকে আমি ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের জানমাল, উপাসনালয়ের ওপর আক্রমণ চালিয়ে যে ভীতিজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে তার জন্য দায়ী দুষ্কৃতকারীদের চিহ্নিত করে তাদেরকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানাচ্ছি। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, হাবিবুর রহমান হাবিব, শাহজাদা মিয়া, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, বিএনপির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন, সহদফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু, মনির হোসেন প্রমুখ।


    সূত্র:dailydinka

    বিষয়: