• নারীদের কি উচ্চ রক্তচাপ কম হয়?

    প্রকাশ: নভেম্বর ০১, ২০১৬ ১০:১৪ AM
    A- A+
    পুরুষদের তুলনায় নারীদের উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি সাধারণত কম। কিন্তু বিশ্বজুড়ে এই চিত্র দ্রুত পাল্টাচ্ছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে, ২০২৫ সাল নাগাদ ২৫ বছর বয়সী পুরুষদের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপের হার ৮ শতাংশ বাড়বে। আর একই বয়সী নারীদের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপের হার বাড়বে ১৩ শতাংশ।
    রক্তনালি ও হৃদ্রোগের ঝুঁকি বিবেচনায় একজন নারীর জীবনকে আমরা দুই ভাগ করতে পারি: মাসিক চলাকালীন জীবন ও রজঃনিবৃত্তি বা মেনোপজের পরবর্তী জীবন। কেননা এই দুই পর্যায়ে নারীর রক্তে নানা হরমোন নিঃসরণের মাত্রায় অনেক পার্থক্য থাকে। পুরুষদের তুলনায় নারীদের উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদ্রোগের ঝুঁকি প্রথম জীবনে যে একটু কম, তার মূল কারণ হলো রক্তে ইস্ট্রোজেন-প্রজেস্টেরন হরমোনের উচ্চ মাত্রা—যা এই ঝুঁকি কমিয়ে রাখে। কিন্তু মেনোপজের বা মাসিক বন্ধের তিন মাসের মাথায় এই হরমোনগুলোর মাত্রা কমে যায়, ফলে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
    নারীদের মধ্যে ধূমপান ও মদ্যপানের হার কম। এ কারণে তাঁদের উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কম। কিন্তু নারীদের ওজনাধিক্য বা স্থূলতার হার বেশি। নিয়মিত ব্যায়ামও তাঁরা পুরুষের তুলনায় কম করে থাকেন। যেসব নারী জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি সেবন করেন, তাঁদের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপের হার দ্বিগুণ বা কখনো তিন গুণ। গর্ভকালীন ইস্ট্রোজেন-প্রজেস্টেরন কয়েক গুণ বেড়ে যায়, তাই স্বাভাবিক গর্ভাবস্থায় রক্তচাপ একটু কমই থাকে। কিন্তু গর্ভধারণের ২০ সপ্তাহের পর কারও কারও রক্তচাপ বেড়ে প্রসূতি ও শিশুকে ঝুঁকিতে ফেলে দিতে পারে। এই সমস্যার নাম প্রি-একলাম্পশিয়া।
    মেনোপজের পর যাঁরা হরমোনজাতীয় ওষুধ খান, তাঁদের উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বেড়ে যায়। একাধিক গবেষণায় দেখা যায়, উচ্চ রক্তচাপ হওয়ার পর পুরুষদের তুলনায় নারীদের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণও হচ্ছে কম। কারণ, তাঁরা লবণ খাওয়ার পরিমাণ কমানো, ওজন কমানো, শারীরিক ব্যায়াম ইত্যাদি করতে ব্যর্থ হচ্ছেন, অনেক সময় ওষুধও নিয়মিত খান না। ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে তাই নারীদের অবশ্যই নিজের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে সচেতন হতে হবে। নিয়মিত রক্তচাপ মাপুন।

    সূত্র:prothom-alo