• চ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে শুরু তামিমের চিটাগংয়ের

    প্রকাশ: নভেম্বর ০৮, ২০১৬ ৬:০১ PM
    A- A+
    বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের সঙ্গে এবারের আসরের অন্যতম ফেবারিটের লড়াই। ম্যাচের আবহে ছিল উত্তেজনার ফুলকি। মাঠের ক্রিকেটে সেটির প্রতিফলন পড়ল সামান্যই। ম্যাচ হলো এক তরফা। গতবারের তলানির দল চিটাগং ভাইকিংসের সঙ্গে লড়াইটা জমাতেই পারল না বর্তমান চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স।

    এক বার উদ্বোধন করে চার দিন পর আবার নতুন করে শুরু হলো বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) চতুর্থ আসর। বিকেল থেকে কালো মেঘে আকাশ ঢাকা থাকলেও কোনো ঝামেলা ছাড়াই শেষ হলো পুরো ম্যাচ। মাশরাফি বিন মুর্তজার কুমিল্লাকে ২৯ রানে হারাল তামিম ইকবালের চিটাগং।

    টস হেরে ২০ ওভারে ৩ উইকেটে ১৬১ রান তুলেছিল চিটাগং। কুমিল্লা থমকে যায় ৮ উইকেটে ১৩২ রানে।

    এবারের বিপিএলের প্রথম অর্ধশতক উপহার দিয়েছেন তামিম ইকবাল। কার্যকর এক ইনিংস খেলেছেন পাকিস্তানি অলরাউন্ডার মালিক।

    তামিম নিজের মনোভাবটা বুঝিয়ে দেন শুরুতেই। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই বেরিয়ে এসে মাশরাফিকে কাভার দিয়ে উড়িয়ে মারেন চার। মিতব্যয়ী বোলিংয়ের জন্য পরিচিত সোহেল তানভিরকে দুটি চার মারার পর ছক্কা মারেন মাথার ওপর দিয়ে।

    আরেক পাশে আক্রমণাত্মক ডোয়াইন স্মিথকে উইকেটে বেধে রাখেন ইমাদ ওয়াসিম ও তানভির। শেষ পর্যন্ত বড় শট খেলতে গিয়েই ফিরেছেন স্মিথ। ইমাদকে ছক্কা মারতে গিয়ে ধরা পড়েছেন লং অনে।

    স্মিথ আউট হওয়ার আগে ইমাদের ওই ওভারেই জীবন পান তামিম। ২৩ রানে কাভারে তার ক্যাচ ছাড়েন নাহিদুল ইসলাম। যেটির খেসারত সরাসরিই দিতে হয় টি-টোয়েন্টি অভিষিক্ত এই অলরাউন্ডারকে। নাহিদুলের অফ স্পিনে বেরিয়ে এসে কাভারের ওপর দিয়ে বল ওড়ান তামিম। ওই ওভারেই মারেন আরেকটি চার। ৩২ বলে অর্ধশতক স্পর্শ করেন চিটাগং অধিনায়ক।

    দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে এনামুল হক ছিলেন তামিমের সহকারীর ভূমিকায়। তবে শেষ পর্যন্ত সম্ভাবনাময় এই জুটি ভেঙেছে দুজনের ভুল বোঝাবুঝিতে। দ্বিতীয় রান নেয়ার চেষ্টায় দুজনই চলে আসেন এক প্রান্তে! হতবিহ্বল এনামুল নিজের উইকেট ছাড়েননি অধিনায়কের জন্য। রান আউট হয়ে ফেরেন তামিম (৩৮ বলে ৫৪)।

    ফেরার সময় এনামুলের ওপর খুব একটা খুশি মনে হয়নি তামিমকে। খানিক পর রান আউট নিয়তি মেনে নিতে হয় এনামুলকেও। ফেরেন মারলন স্যামুয়েলসের সরাসরি থ্রোতে (১৮ বলে ২২)।

    সেখান থেকেই চিটাগংয়ের হাল ধরেন মালিক, দারুণ সঙ্গ দেন জহুরুল। দুজনের জুটিই দলকে টেনে নিয়ে যায় বাকি পুরো সময়।

    মালিক উইকেটে গিয়ে তৃতীয় বলেই বেরিয়ে এসে লং অন দিয়ে ছক্কা মরেন আসহার জাইদিকে। মাশরাফির বলে মিউ উইকেট দিয়ে তার ছক্কাটিও ছিল দেখার মতো।

    ১ রানে মাশরাফির বলে উইকেটের পেছনে লিটন দাসের হাতে জীবন পান জহুরুল। সেটি তিনি কাজে লাগিয়েছেন যথাসাধ্য। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন ২১ বলে ২৯ করে। ২৮ বলে অপরাজিত ৪২ মালিক।

    দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটি ৪১ বলে ৬০। চ্যাম্পিয়দের সামনে চিটাগং ছুঁড়ে দিয়েছে চ্যালেঞ্জিং স্কোর।

    বল হাতে খুব একটা সুবিধে করতে পারেননি কুমিল্লা অধিনায়ক মাশরাফি, অভিজ্ঞ মোহাম্মদ শরীফ ও গত আসরের সেরা ক্রিকেটার আসহার জাইদি। তবে বরাবরের মতোই ইমাদ ওয়াসিম ছিলেন দারুণ।

    সংক্ষিপ্ত স্কোর:

    চিটাগং ভাইকিংস: ২০ ওভারে ১৬১/৩ (তামিম ৫৪, স্মিথ ৯, এনামুল ২২, মালিক ৪২*, জহুরুল ২৯*, মাশরাফি ০/৩৪, ইমাদ ১/২২, তানভির ০/২৮, নাহিদুল ০/২৩, জাইদি ০/১৮, শরিফ ০/৩৩)

    সূত্র:bdnews24