• বুকব্যথা আর হৃৎপি-ের সমস্যা এক নয়

    প্রকাশ: ডিসেম্বর ০৬, ২০১৬ ১০:৪৬ PM
    A- A+
    বুকব্যথা অর্থাৎ অ্যানজিনা পেইন হলে বুকের ঠিক মাঝখানে অনুভূত হয়। বাঁ পাশে নয়। হার্টে রক্তস্বল্পতার কারণে যে ব্যথা হয়, তা বুকের মাঝখান থেকে, কখনো কখনো গলা, চোয়াল, পিঠের পেছনে এবং বাঁ বাহুতে ছড়িয়ে পড়ে। হার্টের ব্যথার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলোÑ চলাফেরা, বিশেষ করে সিঁড়ি ভাঙতে গেলে ব্যথা তীব্রতর হতে থাকে এবং বিশ্রাম নিলে ব্যথা অনেকটা কমে আসে।

     টেনশন করলে কিংবা একবারে বেশি পরিমাণ খেলে, এমনকি ঠা-া বাতাসের কারণেও অনেকের এ ধরনের ব্যথা বাড়তে পারে। হার্টের সমস্যায় বুকে ব্যথার পাশাপাশি ঘাম হতে পারে, বমি বমি ভাব কিংবা বমি হতে পারে।

    পেটের আলসার ও বুকব্যথা : হাইপার অ্যাসিডিটি বা পেটের আলসার বা পেপটিক আলসারের সমস্যা সাধারণ মানুষ গ্যাস্ট্রিক বলে থাকেন। এ সমস্যায়ও বুকব্যথা হতে পারে। তখন বুকের মাঝ বরাবর নিচের দিকে ব্যথা অনুভূত হয়। রোগের তীব্রতায় অনেক সময় তা পুরো বুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভাজাপোড়া খেলে, খালি পেটে থাকলে এ ধরনের ব্যথা বাড়ে। রেনিটিডিন বা ওমিপ্রাজল গ্রুপের ওষুধ খেলে ব্যথা কমে। হার্টের ব্যথা কখনো এসব ওষুধে ভালো হয় না।

    বুকের হাড় ও মাংসের সমস্যা এবং বুকব্যথা : বুকের হাড়ে সমস্যা হলে বুকব্যথা হতে পারে। বুকের আর্থ্রাইটিস, হাড়ের ইনফেকশন বা প্রদাহ হলে ব্যথা হয়। এ ছাড়া বুকের মাংসে আঘাত লাগলে বুকব্যথা হতে পারে। এ ধরনের ব্যথা নড়াচড়া করলে বাড়ে এবং ব্যথানাশক ওষুধ খেলে কমে।

     যারা খেলাধুলা করেন, ড্রাইভিং এবং ভারী কাজ করা যাদের পেশা, তাদের বুকব্যথা হতে পারে। যারা হঠাৎ ব্যায়াম শুরু করেন, প্রাথমিক অবস্থায় তাদেরও বুকব্যথা হতে পারে। এসব বুকের হাড় ও মাংসের সমস্যায় হয়ে থাকে। বিশ্রাম নিলে, ব্যথার ওষুধ খেলে সেরে যায়।

    খাদ্যনালির সমস্যা ও বুকব্যথা : খাদ্যনালির সমস্যায়ও বুকব্যথা হতে পারে। যেমনÑ খাদ্যনালির ইনফেকশন, খাদ্যনালির স্পাজম ইত্যাদি কারণে বুকব্যথা হয়। চিত হয়ে শুয়ে থাকলে, খাওয়া ও পানি পান করার সময় এ ব্যথা বাড়তে পারে। এ ব্যথার ধরন অনেকটা রক্তস্বল্পতাজনিত বুকব্যথার মতো এবং অনেক সময় ব্যায়াম করলে বেড়ে যেতে পারে।

    শ্বাসনালির সমস্যা ও বুকব্যথা : অ্যাজমা বা হাঁপানি রোগে শ্বাসনালির স্পাজম হতে পারে। এ রোগে বুকে চাপ চাপ লাগে এবং বিশ্রাম নিলে কমে যায়। হার্টে রক্তস্বল্পতাজনিত ব্যথার সঙ্গে এ ব্যথার অনেক মিল আছে। তবে এ েেত্র ব্যথার পাশাপাশি কাশি, বুকে চিঁ চিঁ আওয়াজ হতে পারে। ফুসফুসের বিভিন্ন সমস্যা, যেমনÑ নিউমোনিয়া, ফুসফুসে পানি ঢোকা বা যক্ষ্মা ও ক্যানসার ইত্যাদি রোগেও বুকব্যথা হতে পারে।

    দুশ্চিন্তার সঙ্গী বুকব্যথা : যারা টেনশনে ভোগেন, তারা সব সময় বুকে একটা চাপ অনুভব করেন। বিশ্রাম নিলে, রাতে ভালো ঘুম হলে এ ব্যথা কিছুটা কমে আসে। তাই এ ধরনের সমস্যা এড়াতে যতটুকু সম্ভব দুশ্চিন্তামুক্ত জীবনযাপন করা উচিত।

     টেনশনের সবচেয়ে খারাপ দিক হলোÑ আগে থেকে হার্টের সমস্যা থাকলে টেনশনে তা আরও বেড়ে যায়। ছোট শিশুরা নিঃসঙ্গ অবস্থা, অনিশ্চয়তা, ভীতি বোধ, স্কুলভীতি, পরীাভীতি এসব কারণে বুকব্যথার কথা বলে থাকে।

    আমাদের স্বাস্থ্য সচেতনতা বেশ বেড়েছে বটে, তবে অতিসচেতনতা বিড়ম্বনার কারণ হতে পারে। বুকে ব্যথাও এমন একটি বিষয়। অতিস্বাস্থ্য সচেতনতায় সামান্য বুকব্যথায় আমরা বুঝে উঠতে পারি না কী করব, কাকে দেখাব। মেডিসিন না হার্ট স্পেশালিস্ট, সবচেয়ে বড় স্পেশালিস্ট কেÑ ইত্যাদি ভাবতে ভাবতে খেই হারিয়ে ফেলি।

     এ ছাড়া মানুষের অনাবশ্যক বাড়তি উপদেশ তো আছেই। তবে বুকের ব্যথা একেবারে মামুলি বিষয় নয়। মাথায় পানি ঢেলে অথবা বুকে তেল মালিশ করে যে সমস্যাটি দূর হবে, তা-ও নয়। এ জন্য অযথা অস্থির না হয়ে সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।



    লেখক : সহযোগী অধ্যাপক

    শিশু কার্ডিওলজি বিভাগ

    জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, শেরেবাংলানগর ঢাকা

    সূত্র:dainikamadershomoy