বিপিএলকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বসছে জমজমাট জুয়ার আসর। জাগো নিউজের সরেজমিন অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এমনই চিত্র। পুরান ঢাকার চকবাজারে দেবীদাসঘাট এলাকায় এ বিষয়ে কথা হয় কয়েকজনের সঙ্গে। জুয়াড়িদের বিষয়ে জানতে চাইলে কাকতালীয়ভাবে তিনজনই শাহীন নামে একই ব্যক্তির নাম বলেন।
খুঁজতে খুঁজতে অবশেষে পাওয়া যায় শাহীনকে। তবে ব্যক্তিগত পরিচয় দিতে চাননি তিনি। বাবার সঙ্গে ব্যবসা করেন। নিজেরও টুকটাক ব্যবসা আছে। তবে তার বর্তমান পরিচয় আইপিএল, বিপিএলে জুয়া খেলে সব হারানো প্রায় নি:স্ব একজন ঋণগ্রস্ত মধ্যবয়স্ক পুরুষ।
কথা প্রসঙ্গে জানা যায় ভালো ভাবেই ব্যবসা চলছিল তার। তবে ক্রিকেট খেলা শুরু হলেই জুয়ার ভূত ঘাড়ে চেপে বসে শাহীনের। টেস্ট ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি, ওয়ার্ল্ড কাপ, সিপিএল, পিএসএল কিছুই বাদ যায় না। সবই ঠিক ছিল, ছিল সংসারে সচ্ছলতা। তবে কেন এই জুয়ার মোহ?
প্রশ্ন শেষ করার আগেই শাহীনের উত্তর শুরু, আপনি রাস্তা দিয়া চলার সময় চায়ের দোকানে, সেলুনে বা কোনো আড্ডায় যেখানেই যান, দেখতে পাবেন কেউ না কেউ বাজি ধরছে। কেউ টাকা দিয়ে, কেউ খাবারের বিনিময়ে। এটা একটা মজা।
স্থানীয় ভাষায় তিনি আরো বলেন, ‘কহন কহনও এ নিয়ে মারামারি-গ্যাঞ্জাম হয়। আমার মতো পরিচিত কয়েকজন অনেক ট্যাকা লস খাইয়া ব্যবসা-বাণিজ্য লাটে উঠাইছে। এইগুলা থিক্যা ফিরা আহন দরকার। কিন্তু যেহেতু লাখ লাখ ট্যাকার কারবার তাই নিজেগোরে অনেকেই সামলাইতে পারে না। আমিও পারি নাই।’
সব হারিয়েছে কিন্তু এখনো অনুতপ্ত নয় শাহীন। জাগো নিউজকে বলেন, ‘ভাই, সব খেলায় হারজিত আছে। এ রকম বাজি খেলাতেও হারজিত হয়। এমন সময় গ্যাছে এক মৌসুমে ৩-৪ লাখ কামাইছি। কিন্তু এই মৌসুমে এহন পর্যন্ত পৌনে ২ লাখ লসে আছি। সবই কপাল। আর বাজি খেললে খেলা দেখার আলাদা মজা।’
ওদিকে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে চলছে খুলনা টাইটান্স ও বরিশাল বুলসের খেলা। ঠিক তখনই চকবাজারের একটি সেলুনে চলছিল বলে বলে বাজি খেলা। এই বলে চার অথবা ছয়, এই বলে উইকেট অথবা অন্য কিছু। শেরেবাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়াম থেকে মোবাইলে আপডেট জানাচ্ছেন দর্শক গ্যালারিতে থাকা কোনো এক দর্শক। যাকে জানাচ্ছেন তিনিই বাজি জয়ী হচ্ছেন একের পর এক।
সরাসরি সম্প্রচারে যখন বোলিংয়ের যে বলটি দেখাচ্ছে তখন স্টেডিয়ামে ওই বলটি খেলা শেষ হয়ে গেছে। প্রযুক্তির এই সময়ের হের-ফেরকে কাজে লাগিয়ে পুরো ঢাকায় চলে জুয়ার উৎসব। অথচ সেলুনটির বাইরে থেকে বোঝার উপায় নেই ভেতরে কি চলছে।
বেগমবাজারের বাসিন্দা রাকিবুল জানান, পুরান ঢাকার প্রায় সব অলিগলিতেই এ রকম বাজি চলে। তাঁতীবাজার, শাঁখারীবাজার, বংশাল সব এলাকায়ই দোকানে দোকানে অনেক লোক একসঙ্গে বসে টিভিতে খেলা দেখে। আসলে সবই জুয়ার আসর।
বিপিএলকে কেন্দ্র করে রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডের ইস্টার্ন মল্লিকা মার্কেটেও জমে উঠেছে জুয়ার আসর। এখানে প্রতি ম্যাচে বাজি ধরা হয় সর্বনিম্ন দেড় হাজার, সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। প্রতিদিন প্রায় ৮-১০টি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে এখানে বাজি ধরেন তারা। আর পয়েন্ট টেবিলে থাকা নিচের সারির দলগুলোর পক্ষে বাজি ধরে জিতলে টাকার অঙ্কটা একটু বেশি পাওয়া যায়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মার্কেটের এক দোকানি বলেন, শুধু বিপিএল নয় আইপিএল, বিগব্যাশসহ বিশ্বের সব ধনের লিগের বাজি ধরা হয়। এছাড়া বাংলাদেশের সঙ্গে অন্য কোনো দেশের খেলা হলে সেখানে বাজি ধরা হয়।
সূত্র:jagonews24
খুঁজতে খুঁজতে অবশেষে পাওয়া যায় শাহীনকে। তবে ব্যক্তিগত পরিচয় দিতে চাননি তিনি। বাবার সঙ্গে ব্যবসা করেন। নিজেরও টুকটাক ব্যবসা আছে। তবে তার বর্তমান পরিচয় আইপিএল, বিপিএলে জুয়া খেলে সব হারানো প্রায় নি:স্ব একজন ঋণগ্রস্ত মধ্যবয়স্ক পুরুষ।
কথা প্রসঙ্গে জানা যায় ভালো ভাবেই ব্যবসা চলছিল তার। তবে ক্রিকেট খেলা শুরু হলেই জুয়ার ভূত ঘাড়ে চেপে বসে শাহীনের। টেস্ট ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি, ওয়ার্ল্ড কাপ, সিপিএল, পিএসএল কিছুই বাদ যায় না। সবই ঠিক ছিল, ছিল সংসারে সচ্ছলতা। তবে কেন এই জুয়ার মোহ?
প্রশ্ন শেষ করার আগেই শাহীনের উত্তর শুরু, আপনি রাস্তা দিয়া চলার সময় চায়ের দোকানে, সেলুনে বা কোনো আড্ডায় যেখানেই যান, দেখতে পাবেন কেউ না কেউ বাজি ধরছে। কেউ টাকা দিয়ে, কেউ খাবারের বিনিময়ে। এটা একটা মজা।
স্থানীয় ভাষায় তিনি আরো বলেন, ‘কহন কহনও এ নিয়ে মারামারি-গ্যাঞ্জাম হয়। আমার মতো পরিচিত কয়েকজন অনেক ট্যাকা লস খাইয়া ব্যবসা-বাণিজ্য লাটে উঠাইছে। এইগুলা থিক্যা ফিরা আহন দরকার। কিন্তু যেহেতু লাখ লাখ ট্যাকার কারবার তাই নিজেগোরে অনেকেই সামলাইতে পারে না। আমিও পারি নাই।’
সব হারিয়েছে কিন্তু এখনো অনুতপ্ত নয় শাহীন। জাগো নিউজকে বলেন, ‘ভাই, সব খেলায় হারজিত আছে। এ রকম বাজি খেলাতেও হারজিত হয়। এমন সময় গ্যাছে এক মৌসুমে ৩-৪ লাখ কামাইছি। কিন্তু এই মৌসুমে এহন পর্যন্ত পৌনে ২ লাখ লসে আছি। সবই কপাল। আর বাজি খেললে খেলা দেখার আলাদা মজা।’
ওদিকে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে চলছে খুলনা টাইটান্স ও বরিশাল বুলসের খেলা। ঠিক তখনই চকবাজারের একটি সেলুনে চলছিল বলে বলে বাজি খেলা। এই বলে চার অথবা ছয়, এই বলে উইকেট অথবা অন্য কিছু। শেরেবাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়াম থেকে মোবাইলে আপডেট জানাচ্ছেন দর্শক গ্যালারিতে থাকা কোনো এক দর্শক। যাকে জানাচ্ছেন তিনিই বাজি জয়ী হচ্ছেন একের পর এক।
সরাসরি সম্প্রচারে যখন বোলিংয়ের যে বলটি দেখাচ্ছে তখন স্টেডিয়ামে ওই বলটি খেলা শেষ হয়ে গেছে। প্রযুক্তির এই সময়ের হের-ফেরকে কাজে লাগিয়ে পুরো ঢাকায় চলে জুয়ার উৎসব। অথচ সেলুনটির বাইরে থেকে বোঝার উপায় নেই ভেতরে কি চলছে।
বেগমবাজারের বাসিন্দা রাকিবুল জানান, পুরান ঢাকার প্রায় সব অলিগলিতেই এ রকম বাজি চলে। তাঁতীবাজার, শাঁখারীবাজার, বংশাল সব এলাকায়ই দোকানে দোকানে অনেক লোক একসঙ্গে বসে টিভিতে খেলা দেখে। আসলে সবই জুয়ার আসর।
বিপিএলকে কেন্দ্র করে রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডের ইস্টার্ন মল্লিকা মার্কেটেও জমে উঠেছে জুয়ার আসর। এখানে প্রতি ম্যাচে বাজি ধরা হয় সর্বনিম্ন দেড় হাজার, সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। প্রতিদিন প্রায় ৮-১০টি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে এখানে বাজি ধরেন তারা। আর পয়েন্ট টেবিলে থাকা নিচের সারির দলগুলোর পক্ষে বাজি ধরে জিতলে টাকার অঙ্কটা একটু বেশি পাওয়া যায়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মার্কেটের এক দোকানি বলেন, শুধু বিপিএল নয় আইপিএল, বিগব্যাশসহ বিশ্বের সব ধনের লিগের বাজি ধরা হয়। এছাড়া বাংলাদেশের সঙ্গে অন্য কোনো দেশের খেলা হলে সেখানে বাজি ধরা হয়।
সূত্র:jagonews24
