• ভয়াবহ বিপর্যয় নিয়ে আসবে রামপাল’

    প্রকাশ: মে ০৫, ২০১৭ ৮:৪৩ PM
    A- A+
    বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মিত হলে তা হবে দেশের বায়ু দূষণের একক বৃহত্তম উৎস। কয়লাভিত্তিক এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দূষণ ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলা নরসিংদী থেকে শুরু করে ভারতের বসিরহাট-কলকাতা পর্যন্ত ছড়াবে। এই দূষণের কবলে পড়ে প্রাতি বছরে ১৫০ জন মানুষের মৃত্যু হবে। বছরে ৬০০ শিশু কম ওজন নিয়ে জন্মাবে। অর্থাৎ ৪০ বছরে অকাল মৃত্যুতে ৬ হাজার মানুষ প্রাণ হাড়াবে এবং ২৪ হাজার শিশু কম ওজনে জন্ম গ্রহণ করবে।

    পরিবেশ বিষয়ে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় সংস্থা গ্রিনপিস এর কয়লা ও বায়ু দূষণ বিশেষজ্ঞ লরি মাইলিভিরতা-র রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে করা গবেষণায় এসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে। সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির অনুরোধে তিনি এই গবেষণাটি করেছেন।

     আজ শুক্রবার বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও বাংলাদেশ ডক্টরস হেলথ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে গবেষণার ফলাফল তুলে ধরা হয়। লরি স্কাইপের মাধ্যমে তার গবেষণার ফলাফল তুলে ধরেন।

    সংস্থাটির এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে বায়ু দূষণ হবে। এতে শিশু ও বৃদ্ধরা মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হবে। এছাড়া স্ট্রোক, ফুসফুসের ক্যান্সার, বয়স্কদের শ্বাসতন্ত্রের রোগসহ শিশুদের শ্বাস-প্রশ্বাসের ঝুঁকি অনেক বাড়িয়ে দেবে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, রামপালে প্রস্তাবিত ১৩২০ মেগাওয়াট মৈত্রী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশের বায়ু দূষণের মধ্যে বৃহত্তর একক উৎস হবে। এটি সুন্দরবনের ইকোসিস্টেমসহ দক্ষিণ-পশ্চিম বাংলাদেশ এবং খুলনা, অশোকনগর, কল্যাণগড়, সাতক্ষীরা বেগমগঞ্জ, বশিরহাট, নরসিংদী, নোয়াখালী, বাসীপুর ও কুমিল্লা অঞ্চলের উপরের বাতাসে বিষাক্ত ধূলিকনার মাত্রা অধিকতর খারাপ করে দেবে। ঢাকা ও কলকাতার বাসিন্ধারা বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা বায়ু দূষণে মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হবে। এতে বলা হয়, বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্গমন স্ট্রোক, ফুসফুসের ক্যান্সার, বয়স্কদের শ্বাসতন্ত্রের রোগ, শিশুদের শ্বাস-প্রশ্বাসের ঝুঁকি অনেক বাড়িয়ে দেবে।

    গ্রিনপিসের গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি থেকে উচ্চ মাত্রায় শক্তিশালী স্নায়ুবিষ পারদ উদগীরণ হবে। যা শিশুদের মস্তিস্ক ও স্নায়ুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্থ হবে। রামপাল হতে অবক্ষেপিত পারদ, বিদ্যুৎকেন্দ্রের চারপাশে প্রায় ৭০ বর্গকিলোমিটার মাছ খাওয়ার অযোগ্য হবে। এই পারদ সুন্দরবন ও বঙ্গপোসাগরের জলজ খাদ্য চক্রকে ঝুঁকিতে ফেলবে। এটা লাখ লাখ মানুষের উপর প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে যারা মাছ ও  জলজ প্রাণী খাবে।

    লরি মাইলিভিরতা বলেন, বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি থেকে অতি উচ্চমাত্রায় ‘স্নায়ুবিষ’ পারদ বের হবে। যা শিশুদের মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত করবে। এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পারদের দূষণের কারণে সুন্দরবনের চারপাশের ৭০ কিলোমিটার এলাকার মাছ খাওয়ার অনুপযোগী হয়ে পড়বে। কেউ যদি ওই মাছ খায় তাহলে সে স্নায়ুজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হবে।

    জীবদ্দশায় অর্থাৎ ৪০ বছরে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি থেকে ১০ হাজার কেজি পারদ উদ্গিরণ হবে। যা বন্যায় প্লাবিত হয়ে সুন্দরবনসহ আশপাশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এতে সুন্দরবনের চারপাশ এবং বঙ্গোপসাগরের জীববৈচিত্র্য ও প্রাণীদের জীবন বিপন্ন করবে। যা ওই ভবনের ওপর নির্ভরশীল লাখ লাখ মানুষের জীবন-জীবিকাকে বিপন্ন করে তুলবে বলে গবেষণায় বলা হয়েছে।

    বৈঠকে লরি মাইলিভিরতার গবেষণা প্রতিবেদন নিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন মানবাধিকারকর্মী ড. সুলতানা কামাল। তিনি বলেন, ‘রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র হলে জাতিকে অকাল মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হবে। যে অঞ্চলগুলোতে ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে সেসব এলাকার ছেলে-মেয়েরা হবে মেধাশূন্য।

    সরকার ক্ষমতায় আছে বলে যা ইচ্ছে তাই করবে এটা তো ঠিক না। তারা আমাদের সত্য তথ্য দিচ্ছে না। সরকার বলছে আমাদের অভিযোগের বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই এটা পুরোটাই ভিত্তিহীন। ভয়াবহ বিপর্যয় নিয়ে আসবে রামপাল।’

    শুধু রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নয় ,আমরা দেশের কোথাও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র হোক এটা চাই না। বিশ্বজুড়ে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র সবচেয়ে ক্ষতিকারক হিসেবে প্রমাণিত হচ্ছে। বেশির ভাগ দেশ নতুন করে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করছে না। আমরা সরকারের কাছে নানা সময়ে এ ব্যাপারে বিজ্ঞান ভিত্তিক তথ্য-উপাত্ত হাজির করেছি। কিন্তু তারা এসব কথা কানে নিচ্ছে না।

    ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক নাজমুল নাহার বলেন, ‘আমারা শিশু মৃত্যুর হার কমিয়েছে। কিন্তু সেটার সুফল পেতে না পেতেই আবার সেই দিকেই যাচ্ছি। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র হলে বাচ্চারা কম ওজন নিয়ে জন্মাবে। প্রতিবন্ধী শিশুর সংখ্যা বেড়ে যাবে।’

    সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বাপার সাধারণ সম্পাদক ডা. আবদুল মতিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিল, শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আবু সায়ীদ ।

    সূত্র:protidinersangbad

    বিষয়: