• ৩ ডজন সমস্যায় প্রাথমিক শিক্ষা

    প্রকাশ: মে ০৭, ২০১৭ ১০:০৬ AM
    A- A+
    শিক্ষক-কর্মচারী সংকট, শ্রেণিকক্ষ ও ভবন সংকট এবং শিক্ষকদের পদোন্নতি বঞ্চনা, জটিল বদলি নীতিমালা, বদলিতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং অপ্রতুল বাজেটসহ কমপক্ষে ৩৬ ধরনের সমস্যায় ভুগছে প্রাথমিক শিক্ষা। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের (ডিপিও) দৃষ্টিতে এসব সমস্যা উঠে এসেছে।

    সূত্র জানায়, প্রাথমিক স্তরে শিক্ষার মান উন্নয়নে লক্ষ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ‘ডিপিও কনফারেন্স’-এর উদ্যোগ নিয়েছে। শিগগির ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে এ সম্মেলন। এ উপলক্ষে ডিপিওদের কাছে নির্ধারিত ছকে প্রাথমিক শিক্ষার সমস্যা ও সমাধানের সুপারিশ আহ্বান করেছে মন্ত্রণালয়। তাদের পাঠানো তথ্যে প্রাথমিক শিক্ষার এসব সমস্যা উঠে আসে।

    ডিপিও সম্মেলন প্রসঙ্গে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. নজরুল ইসলাম খান আমাদের সময়কে বলেন, গুণগত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে মাঠ পর্যায়ের সমস্যা ও সমাধানের জন্য ডিপিওদের কাছে তথ্য চাওয়া হয়। প্রথমবারের মতো আয়োজিত এ সম্মেলনে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতিতে শিক্ষা কর্মকর্তাদের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে। সমাধানের উপায়ও সম্মেলনে নির্ধারণ করা হবে।

    ডিপিওদের পাঠানো তথ্যে দেখা গেছে, শিক্ষক সংকটই গুণগত প্রাথমিক শিক্ষার প্রধান অন্তরায়। এ জন্য নিয়োগের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ কোটা বাদ দিয়ে শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক নির্ধারণ, দুর্গম ও হাওর এলাকায় উপজেলাভিত্তিক কোটা নির্ধারণ করে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া। প্রধান শিক্ষক পদে দীর্ঘদিন পদোন্নতি বন্ধ থাকায় মাঠ পর্যায়ে হতাশা সৃষ্টি হয়েছে।বিদ্যমান পদোন্নতি নীতিমালা আরও সহজীকরণ করে ডিপিও বরাবরে ন্যস্ত করার সুপারিশও করা হয়েছে।

    এ ছাড়া শিক্ষক বদলিতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ, অনলাইনের মাধ্যমে বদলি, এক স্কুলে পাঁচ বছরের বেশি কর্মরত থাকলে অন্য স্কুলে বদলির নীতিমালা করা। উপজেলা থেকে উপজেলায় ডেপুটেশন বন্ধ করা। বদলির সময়সীমা জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত করা। স্বামীর স্থায়ী ঠিকানায় বদলির ব্যবস্থা করা।

    ঝরে পড়া রোধে স্কুল সূচি দুপুর ২টা থেকে কমিয়ে আনা; দুপুরে টিফিনের সময় ৩০ মিনিটের পরিবর্তে ৪৫ মিনিট করা; ১ম ও ২য় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য টিফিনের সময় দেওয়া; বছরে তিনটির পরিবর্তে দুটি পরীক্ষা নেওয়া; প্রতিটি অধ্যায়ের পাঠদান শেষে অধ্যায়ভিত্তিক ক্লাস টেস্ট নেওয়া; প্রতিদিন ছয়টির পরিবর্তে চারটি বিষয় পাঠদান করা; ২৮ ফেব্রুয়ারির পরিবর্তে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত শিশু ভর্তির সময় নির্ধারণ করা; স্কুলকে আনন্দদায়ক করার জন্য চারু-কারু, শারীরিক শিক্ষা ও সঙ্গীতের শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া।

    এ ছাড়া ছাত্র শিক্ষক অনুপাত ১ঃ৩০ অর্থাৎ ৩০ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক নিয়োগ করা; সব স্কুলে মিডডে মিল চালু, স্কুল ফিডিং এবং উপবৃত্তির পরিমাণ বৃদ্ধি করা; সিটি করপোরেশন ও পৌর এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তি চালু করা; বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের উপবৃত্তির টাকার পরিমাণ বৃদ্ধি করা; যেসব স্কুলে শিক্ষার্থী সংখ্যা একশ বা তার কম সেসব স্কুল বিলুপ্ত করে শিক্ষকদের অন্য স্কুলে বদলি করা; স্কুল চলাকালীন কোচিং সেন্টার বন্ধ করা; কিন্ডারগার্টেন স্কুলের কার্যক্রম মনিটরিংয়ের আওতায় এনে প্রাথমিক শিক্ষার মৌলিক সংস্কারের সুপারিশ করে ডিপিওরা।

    উল্লেখ্য, গত ১৫ মার্চ মন্ত্রণালয় থেকে ডিপিও সম্মেলনের জন্য তথ্য চেয়ে নির্দেশনা পাঠানো হয়।

    সূত্র:dainikamadershomoy