ডাক্তারিই একমাত্র পেশা, যে পেশার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অর্থাৎ ডাক্তার সাহেব চিকিৎসার জন্য যে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন, রোগী সেটিকে সঠিক মনে করে। অন্য পেশাজীবীদের ক্ষেত্রে এমনটি নাও হতে পারে। যেমন কোনো ইঞ্জিনিয়ার একটি বাড়ির ৩৬টি পিলারের মধ্যে ৩৫টি ১১ ফিট ও ১টি পিলার ৯ ফিট তৈরি করলে আমরা তার ত্র“টি ধরতে পারব, অধ্যাপক সাহেব ভুল পড়ালে ছাত্ররা তা ধরতে পারে। তার মানে অন্যান্য পেশায় যুক্তদের ত্র“টি-বিচ্যুতি কম-বেশি সাধারণ জ্ঞান দিয়ে বোঝা যায়, কিন্তু ডাক্তারির ক্ষেত্রে তা নয়। যেমন কারও কানে ব্যথা হলে ডাক্তার যদি বলে পায়ের আঙুলে একটি ইনজেকশন দিতে হবে, তবে রোগী মনে করবে- এটাই সঠিক। আমার বাবার একদিন হঠাৎ শ্বাসকষ্ট শুরু হলে হৃদরোগ ইন্সটিটিউটে নিয়ে যাওয়া হল। এরপর একজন ডাক্তার তার পায়ের রগ দিয়ে একটি ‘তার’ (হার্টের মধ্যে অস্থায়ী পেসমেকারের তার) ঢুকাতে বললে আমরা সঙ্গে সঙ্গে তাই করার অনুমতি দিলাম এবং বাবা সুস্থ হয়ে উঠলেন। এ কথা বলার উদ্দেশ্য হল, ডাক্তাররা যখন কোনো পরামর্শ বা ব্যবস্থার কথা বলেন, তখন আমরা সাধারণত কোনো যুক্তি খুঁজতে যাই না অথবা ভাবি না যে, শ্বাসকষ্টের সঙ্গে পায়ের রগের কী সম্পর্ক!
দুঃখজনক হল, আমাদের পরম বিশ্বাসকে পুঁজি করে অনেক ডাক্তার ওষুধ কোম্পানির কমিশন, ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কমিশন এবং রোগীদের জিম্মি করে টাকা উপার্জনে ব্যস্ত রয়েছে। এখন প্রায় সব ডাক্তারেরই নিজস্ব ক্লিনিক বা ক্লিনিকের সঙ্গে কন্ট্রাক্ট করা আছে, যেখানে অহেতু হাজার হাজার টাকার টেস্ট এবং ছোট রোগকে বড় করে দেখিয়ে ধারাবাহিক টাকা উপার্জনের ব্যবস্থা পাকাপোক্ত করা হয়। আমার বন্ধু আনোয়ার হোসেন জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটে আমার বাবাকে দেখতে গিয়ে খরচ কম দেখে তার নিজের একটি ইসিজি করার সিদ্ধান্ত নেয়। ওখানে দায়িত্ব পালনকারী একজন ডাক্তার রিপোর্ট দেখে বলল-
: ঝামেলা আছে, ইটিটি ও কালার ডোপলারসহ আরও কয়েকটি টেস্ট করতে হবে।
হাসপাতালে করলে সময় লাগবে বলে ডাক্তার সাহেব হাসপাতালের বাইরের একটি ক্লিনিক (ডাক্তার সাহেবের ব্যক্তিগত) থেকে টেস্টগুলো করানোর পরামর্শ দিলেন। ভয়ে তাই করা হল। পরে ডাক্তার সাহেবকে রিপোর্ট দেখালে তিনি বললেন-
: একটু ঝামেলা আছে, সময় নিয়ে দেখতে হবে।
ইতিমধ্যে টেনশনে আমার বন্ধুর ঘুম-খাওয়া, চলাফেরা সব বন্ধ হওয়ার উপক্রম। ডাক্তারের কথামতো তার চেম্বারে গেলাম। রিপোর্ট দেখে ওষুধ দিতে তার সময় লাগল ২ মিনিট। আচ্ছা! এই ২ মিনিট কি অনেক বেশি সময়? এ সময়টা কি রিপোর্ট দেখানোর সময় দেয়া যেত না! বুঝতে বাকি রইল না, শুধু টাকার জন্যই আমাদের তার চেম্বার পর্যন্ত টেনে আনা হয়েছে। যাই হোক, এ ডাক্তারের দেয়া ওষুধ খেয়ে আমার বন্ধু আরও অসুস্থ হয়ে পড়ল এবং ধীরে ধীরে তা গুরুতর আকার ধারণ করল। উপায়ন্তর না দেখে আমরা অনেক খোঁজ-খবর করে অন্য একজন ডাক্তারের শরণাপন্ন হলাম। সব দেখেশুনে তিনি বললেন-
: আনোয়ার সাহেবের কোনো রোগ নেই; সব ওষুধ বন্ধ রাখুন।
ওষুধ বন্ধ করার সপ্তাহ দু’য়েকের মধ্যে আনোয়ার সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠল। এবার আরও একটি অভিজ্ঞতার কথা বলি। আমার স্ত্রী সন্তান ধারণের পর গুলশান মা ও শিশু ক্লিনিকের একজন অধ্যাপকের চিকিৎসা ও পরামর্শ গ্রহণ করছিল। প্রসবের সময় হওয়ার পর হঠাৎ একদিন তিনি আমার স্ত্রীর সিজারের তারিখ দিয়ে দিলেন। আমি ডাক্তার সাহেবকে জিজ্ঞেস করলাম-
: বাচ্চার কোনো সমস্যা আছে?
- না।
এরপর আমি আমার এক সহকর্মীর স্ত্রী, যিনি পেশায় একজন ডাক্তার, তাকে দেখালাম। তিনি জানালেন-
: বাচ্চার পজিশন খুবই ভালো। অপেক্ষা করুন।
সহকর্মীর স্ত্রীর চেম্বার অনেক দূরে হওয়ায় আমি আমার বাড়ির কাছাকাছি সাহাবউদ্দিন মেডিকেল কলেজের একজন সহযোগী অধ্যাপকের কাছে গেলাম। ৪-৫ দিন দেখার পর তিনিও সিজারের তারিখ পছন্দ করতে বললেন। আমি আলট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট দেখিয়ে তাকে বললাম-
: কোনো সমস্যা? তিনি বললেন-
: বাচ্চার ওজন অনেক বেশি হয়ে গেছে, প্রায় ৪ কেজির ওপরে। বাচ্চা মুভমেন্ট করতে পারছে না; সিজার করতে হবে।
আমি তাকে বললাম-
: নরমাল ডেলিভারি যাতে হয়, সেজন্য একটু চেষ্টা করুন। ডাক্তার সাহেব বললেন-
: ওজন ৩.৫ কেজি পর্যন্ত হলে চেষ্টা করতাম, কিন্তু ৩.৫ কেজির বেশি বাচ্চাদের নরমাল ডেলিভারির চেষ্টা করা হয় না।
ডাক্তারের কথায় আমরা বাধ্য হয়ে সিজার করানোর ব্যাপারে সম্মত হলাম। কিন্তু অপারেশনের পর দেখলাম, আমার বাচ্চার ওজন মাত্র ২ কেজি ৪০০ গ্রাম।
অনেক খোঁজ নিয়ে পরে জেনেছি, মূলত ৩টি কারণে সিজার করাতে মানুষজনকে বাধ্য করা হয়। এগুলো হল-
১. টাকার জন্য।
২. মেডিকেল ছাত্রছাত্রীদের ব্যবহারিক বা ইন্টার্নি করার জন্য। এখানেও ডাক্তাররা ইন্টার্নি ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে কমিশন পেয়ে থাকে। (তার মানে কী এটাই যে, এইচএসসিতে বিজ্ঞান বিভাগে ব্যবহারিক ক্লাসে আমরা ব্যাঙের পেট কেটে আবার ছেড়ে দিতাম, তেমনি আমার স্ত্রীর পেট কেটে মেডিকেলের ছাত্রছাত্রীদের ব্যবহারিক করানো হয়েছে?)
৩. প্রাইভেট মেডিকেলে গাইনি ডাক্তাররা সিজার না করালে কর্তৃপক্ষ তাদের হাসপাতালে রাখেন না।
ইউরোপ ও আমেরিকায় সবচেয়ে কমসংখ্যক সিজার অপারেশনের ঘটনা ঘটে। প্রথমত তারা স্বাভাবিক ডেলিভারির সর্বাত্মক চেষ্টা করে। কেউ একেবারে মৃত্যুঝুঁকির দিকে না গেলে তারা সিজার অপারেশনে যায় না। ইতালিসহ ইউরোপের অনেক দেশে ইচ্ছাকৃত সিজার অপারেশনকে বেআইনি হিসেবে গণ্য করা হয়। চরম ভোগান্তির পর আমার এক ডাক্তার বন্ধুকে সব কথা বললাম। সে তখন আমাকে বলল-
: দেখ, একটা নরমাল ডেলিভারির জন্য একজন ডাক্তারকে ২ থেকে ১৮ ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়। এর বিনিময়ে সে পায় মাত্র ৮০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা। আর সিজার করলে ২৫-৩৫ মিনিটে পেয়ে যায় ৬ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা। তাই এরকম হয়।
কিছুদিন আগে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘টাকা কামাইয়ের জন্য চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচারে সন্তান প্রসব করাচ্ছে।’ সর্বশেষ ইউঐঈ (বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক হেলথ সার্ভে)-এর হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে ২৩% সিজার অপারেশন হয় এবং এর ৮০% হয় বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকে। ডাক্তারদের তো দমে দমে টাকার আমদানি। তারপরও তারা যদি আমাদের সামনে মিথ্য অজুহাত দাঁড় করিয়ে টাকা কামানোর ধান্ধা করেন- বলুন তো, আমরা তাহলে কাদের ওপর নির্ভর করব? আমার বাবা একজন ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় মারা গেছেন। পরে সে ডাক্তার ভুল স্বীকার করে আমাদের কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চেয়েছেন। তারপরও এ কথা তো সত্য- ডাক্তার সাহেবের একটি ভুল আমার মুখ থেকে বাবা ডাকটি কেড়ে নিয়েছে সারাজীবনের জন্য, যা সমগ্র পৃথিবীর বিনিময়েও আমি আর ফেরত পাব না। বিনীতভাবে ডাক্তার সাহেবদের উদ্দেশে বলতে চাই, আপনাদের ডিগ্রির মানে যেন এটাই হয়-
M = Manobikota = মানবিকতা
B = Bibakbod = বিবেকবোধ
B = Balobasa = ভালোবাসা
S = Sobar Jonno = সবার জন্য
সূত্র:juganto
দুঃখজনক হল, আমাদের পরম বিশ্বাসকে পুঁজি করে অনেক ডাক্তার ওষুধ কোম্পানির কমিশন, ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কমিশন এবং রোগীদের জিম্মি করে টাকা উপার্জনে ব্যস্ত রয়েছে। এখন প্রায় সব ডাক্তারেরই নিজস্ব ক্লিনিক বা ক্লিনিকের সঙ্গে কন্ট্রাক্ট করা আছে, যেখানে অহেতু হাজার হাজার টাকার টেস্ট এবং ছোট রোগকে বড় করে দেখিয়ে ধারাবাহিক টাকা উপার্জনের ব্যবস্থা পাকাপোক্ত করা হয়। আমার বন্ধু আনোয়ার হোসেন জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটে আমার বাবাকে দেখতে গিয়ে খরচ কম দেখে তার নিজের একটি ইসিজি করার সিদ্ধান্ত নেয়। ওখানে দায়িত্ব পালনকারী একজন ডাক্তার রিপোর্ট দেখে বলল-
: ঝামেলা আছে, ইটিটি ও কালার ডোপলারসহ আরও কয়েকটি টেস্ট করতে হবে।
হাসপাতালে করলে সময় লাগবে বলে ডাক্তার সাহেব হাসপাতালের বাইরের একটি ক্লিনিক (ডাক্তার সাহেবের ব্যক্তিগত) থেকে টেস্টগুলো করানোর পরামর্শ দিলেন। ভয়ে তাই করা হল। পরে ডাক্তার সাহেবকে রিপোর্ট দেখালে তিনি বললেন-
: একটু ঝামেলা আছে, সময় নিয়ে দেখতে হবে।
ইতিমধ্যে টেনশনে আমার বন্ধুর ঘুম-খাওয়া, চলাফেরা সব বন্ধ হওয়ার উপক্রম। ডাক্তারের কথামতো তার চেম্বারে গেলাম। রিপোর্ট দেখে ওষুধ দিতে তার সময় লাগল ২ মিনিট। আচ্ছা! এই ২ মিনিট কি অনেক বেশি সময়? এ সময়টা কি রিপোর্ট দেখানোর সময় দেয়া যেত না! বুঝতে বাকি রইল না, শুধু টাকার জন্যই আমাদের তার চেম্বার পর্যন্ত টেনে আনা হয়েছে। যাই হোক, এ ডাক্তারের দেয়া ওষুধ খেয়ে আমার বন্ধু আরও অসুস্থ হয়ে পড়ল এবং ধীরে ধীরে তা গুরুতর আকার ধারণ করল। উপায়ন্তর না দেখে আমরা অনেক খোঁজ-খবর করে অন্য একজন ডাক্তারের শরণাপন্ন হলাম। সব দেখেশুনে তিনি বললেন-
: আনোয়ার সাহেবের কোনো রোগ নেই; সব ওষুধ বন্ধ রাখুন।
ওষুধ বন্ধ করার সপ্তাহ দু’য়েকের মধ্যে আনোয়ার সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠল। এবার আরও একটি অভিজ্ঞতার কথা বলি। আমার স্ত্রী সন্তান ধারণের পর গুলশান মা ও শিশু ক্লিনিকের একজন অধ্যাপকের চিকিৎসা ও পরামর্শ গ্রহণ করছিল। প্রসবের সময় হওয়ার পর হঠাৎ একদিন তিনি আমার স্ত্রীর সিজারের তারিখ দিয়ে দিলেন। আমি ডাক্তার সাহেবকে জিজ্ঞেস করলাম-
: বাচ্চার কোনো সমস্যা আছে?
- না।
এরপর আমি আমার এক সহকর্মীর স্ত্রী, যিনি পেশায় একজন ডাক্তার, তাকে দেখালাম। তিনি জানালেন-
: বাচ্চার পজিশন খুবই ভালো। অপেক্ষা করুন।
সহকর্মীর স্ত্রীর চেম্বার অনেক দূরে হওয়ায় আমি আমার বাড়ির কাছাকাছি সাহাবউদ্দিন মেডিকেল কলেজের একজন সহযোগী অধ্যাপকের কাছে গেলাম। ৪-৫ দিন দেখার পর তিনিও সিজারের তারিখ পছন্দ করতে বললেন। আমি আলট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট দেখিয়ে তাকে বললাম-
: কোনো সমস্যা? তিনি বললেন-
: বাচ্চার ওজন অনেক বেশি হয়ে গেছে, প্রায় ৪ কেজির ওপরে। বাচ্চা মুভমেন্ট করতে পারছে না; সিজার করতে হবে।
আমি তাকে বললাম-
: নরমাল ডেলিভারি যাতে হয়, সেজন্য একটু চেষ্টা করুন। ডাক্তার সাহেব বললেন-
: ওজন ৩.৫ কেজি পর্যন্ত হলে চেষ্টা করতাম, কিন্তু ৩.৫ কেজির বেশি বাচ্চাদের নরমাল ডেলিভারির চেষ্টা করা হয় না।
ডাক্তারের কথায় আমরা বাধ্য হয়ে সিজার করানোর ব্যাপারে সম্মত হলাম। কিন্তু অপারেশনের পর দেখলাম, আমার বাচ্চার ওজন মাত্র ২ কেজি ৪০০ গ্রাম।
অনেক খোঁজ নিয়ে পরে জেনেছি, মূলত ৩টি কারণে সিজার করাতে মানুষজনকে বাধ্য করা হয়। এগুলো হল-
১. টাকার জন্য।
২. মেডিকেল ছাত্রছাত্রীদের ব্যবহারিক বা ইন্টার্নি করার জন্য। এখানেও ডাক্তাররা ইন্টার্নি ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে কমিশন পেয়ে থাকে। (তার মানে কী এটাই যে, এইচএসসিতে বিজ্ঞান বিভাগে ব্যবহারিক ক্লাসে আমরা ব্যাঙের পেট কেটে আবার ছেড়ে দিতাম, তেমনি আমার স্ত্রীর পেট কেটে মেডিকেলের ছাত্রছাত্রীদের ব্যবহারিক করানো হয়েছে?)
৩. প্রাইভেট মেডিকেলে গাইনি ডাক্তাররা সিজার না করালে কর্তৃপক্ষ তাদের হাসপাতালে রাখেন না।
ইউরোপ ও আমেরিকায় সবচেয়ে কমসংখ্যক সিজার অপারেশনের ঘটনা ঘটে। প্রথমত তারা স্বাভাবিক ডেলিভারির সর্বাত্মক চেষ্টা করে। কেউ একেবারে মৃত্যুঝুঁকির দিকে না গেলে তারা সিজার অপারেশনে যায় না। ইতালিসহ ইউরোপের অনেক দেশে ইচ্ছাকৃত সিজার অপারেশনকে বেআইনি হিসেবে গণ্য করা হয়। চরম ভোগান্তির পর আমার এক ডাক্তার বন্ধুকে সব কথা বললাম। সে তখন আমাকে বলল-
: দেখ, একটা নরমাল ডেলিভারির জন্য একজন ডাক্তারকে ২ থেকে ১৮ ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়। এর বিনিময়ে সে পায় মাত্র ৮০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা। আর সিজার করলে ২৫-৩৫ মিনিটে পেয়ে যায় ৬ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা। তাই এরকম হয়।
কিছুদিন আগে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘টাকা কামাইয়ের জন্য চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচারে সন্তান প্রসব করাচ্ছে।’ সর্বশেষ ইউঐঈ (বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক হেলথ সার্ভে)-এর হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে ২৩% সিজার অপারেশন হয় এবং এর ৮০% হয় বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকে। ডাক্তারদের তো দমে দমে টাকার আমদানি। তারপরও তারা যদি আমাদের সামনে মিথ্য অজুহাত দাঁড় করিয়ে টাকা কামানোর ধান্ধা করেন- বলুন তো, আমরা তাহলে কাদের ওপর নির্ভর করব? আমার বাবা একজন ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় মারা গেছেন। পরে সে ডাক্তার ভুল স্বীকার করে আমাদের কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চেয়েছেন। তারপরও এ কথা তো সত্য- ডাক্তার সাহেবের একটি ভুল আমার মুখ থেকে বাবা ডাকটি কেড়ে নিয়েছে সারাজীবনের জন্য, যা সমগ্র পৃথিবীর বিনিময়েও আমি আর ফেরত পাব না। বিনীতভাবে ডাক্তার সাহেবদের উদ্দেশে বলতে চাই, আপনাদের ডিগ্রির মানে যেন এটাই হয়-
M = Manobikota = মানবিকতা
B = Bibakbod = বিবেকবোধ
B = Balobasa = ভালোবাসা
S = Sobar Jonno = সবার জন্য
সূত্র:juganto
